FREELANCERS IT https://www.freelancersit.com/2023/09/how-to-earn-from-facebook.html

ফেসবুক থেকে কতভাবে টাকা আয় করা যায় জানুন

ফেসবুক থেকে যে কত ভাবে টাকা ইনকাম করা যায় এটা অধিকাংশ লোকই জানে না । অনেকের ধারণা নেই। তো যারা অনলাইন থেকে টাকা আয় করতে চাচ্ছেন আজকের এই পোস্টটি তাদের জন্য অনেক বেশি উপকারী হতে চলেছে। অর্থাৎ আপনি যদি গৃহিণী হন বা আপনি যদি স্টুডেন্ট হন অথবা আপনি যদি পার্মানেন্টলি অনলাইন থেকে ইনকাম করতে চান । তাহলে এই পোস্টটি আপনাকে বেশি উপকৃত করবে। চলুন কথা না বাড়িয়ে  মূল আলোচনায় যাওয়া যাক। 

ফেসবুক থেকে কতভাবে টাকা আয় করা যায়।

ফেসবুক থেকে  টাকা আয় করার উপায় সমূহঃ

ফেসবুক এর কোন মাধ্যমে বেশি আয়?
বর্তমানে ফেসবুক থেকে আয় করার সব থেকে পপুলার ওয়ে হচ্ছে কনটেন্ট তৈরি করে আয় করা। অর্থাৎ আপনি ফেসবুকের যেকোনো ধরনের ভিডিও তৈরি করতে পারেন। আপনার কাছে যে বিষয়টি সব থেকে ভালো লাগে আপনি সে বিষয়ে ভিডিও তৈরি করতে পারেন। ধরেন আপনি যদি ঘুরতে ভালোবাসেন তাহলে ঘুরতে গিয়ে আপনি ব্লগ করবেন।

এই রিলেটেড ব্লগ আপনি ফেসবুকে আপলোড করবেন। আবার আপনি যদি চান পণ্যর একটা ব্লগ করে আয় করবেন। তাহলে এখান থেকেও আপনি আয় করতে পারবেন। এখানে দুই ধরনের আয় হতে পারে আপনি যাদের পণ্যগুলোকে প্রমোট করবেন তারা আপনাকে টাকা দিবে আবার আপনি প্রোডাক্ট এর ব্লগ গুলো আপনি আপনার পেইজে আপলোড করছেন তাই এখান থেকে একটা ভিউ আসবে আপনার মনিটাইজেশন অন হবে। এখান থেকেও আপনি টাকা আয় করতে পারবেন।

মোট কথা হচ্ছে যে কনটেন্টি আপনার ভালো লাগবে। বা আমি যে ধরনের কনটেন্ট তৈরি করি এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি করতে যদি যদি আপনাদের ভালো লাগে তো আপনি এরকম কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন। আবার আপনার যদি ফুড ব্লগিং ভালো লাগে তাহলে আপনি সেটা করতে পারেন। আবার আপনি যদি চান কোন প্রকার সংবাদ এর সাথে সম্পৃক্ত কোন ব্লগ তৈরি করবেন ইনফরমেটিভ টাইপের কোন কনটেন্ট আপনি তৈরি করতে পারবেন ।

অথবা মোটিভেশনাল এর ব্লগ তৈরি করতে পারবেন। মোটকথা হাজার হাজার নিস আছে এখানে আপনার যে নিস পছন্দ হবে আপনি সেই নিস পছন্দ করে ব্লগ তৈরি করতে পারবেন। 

ফেসবুক রিলস থেকে আয়

আপনার যদি ফেসবুক পেজ থাকে অথবা প্রোফাইলে যদি প্রফেশনাল মোড অন থাকে। তাহলে আপনি ফেইসবুক রিলিস থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এতদিন তো আপনারা tiktok এ ফ্রিতে ভিডিও আপলোড করেছেন।

অনেকে কোন প্রকার টাকা পয়সা ছাড়াই কষ্ট করে অনেক ধরনের গেজেট ক্রয় করে ভিডিও আপলোড করেছেন। এই ভিডিও গুলোই রিলস এ এনে যদি আপনারা আপলোড করেন আপনারা দেখবেন যে রাতারাতি একটা সাফল্য পেয়ে গেছেন রিলসের ভিডিওগুলো অনেক বেশি ভিউ করে। তো আপনি কিন্তু এখান থেকে মনিটাইজেশন অন করে ফেসবুক থেকে টাকা আয় করতে পারবেন।

ট্রেন্ডিং থেকে আয়
এখন বর্তমানে যারা ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছেন টিকটক করে বা এই রিলস ভিডিও করে তারা কিন্তু বাংলাদেশ থেকে অনেক ভালো স্পন্সর পাচ্ছে। এখান থেকেও আপনি দুইভাবে আয় করতে পারবেন। একটা হচ্ছে মনিটাইজেশন অন করে আরেকটা হচ্ছে স্পন্সর থেকে। সুতরাং এখান থেকে আপনার ভালো একটা আয় করার সম্ভাবনা রয়েছে। এবং অল্প পরিশ্রমে আরেকটা জিনিস আমি বলতে পারি, শুধু অল্প পরিশ্রম না অল্প মেধা দিয়ে এখান থেকে আপনারা ভালো টাকা আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। শুধুমাত্র ভিডিও আপলোড করার মাধ্যমে বর্তমানে কারা ফেসবুক থেকে বেশি আয় করে জানেন? যারা ফেসবুক থেকে পণ্য বিক্রি করে।

আপনি যখন আপনার নিউজ ফিডে ঘুরবেন তখন দেখবেন আপনার সামনে অনেক পণ্যর বিজ্ঞাপন। আপনি যেসব বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট সেইসব পণ্যর বিজ্ঞাপন আপনার সামনে চলে আসতেছে। কিছু বিজ্ঞাপন ভিডিও আকারে আসবে আর কিছু ছবি আকারে আসবে তো আপনি দেখে ভালো লাগলে অর্ডার দিয়ে দিচ্ছেন।

এভাবে একশ্রেণীর লোকজন বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট ফেসবুকে সেল করতেছে। আর এটা সব থেকে সহজ একটা মাধ্যম। আপনি যদি নরমালি অনলাইনে একটা প্রোডাক্ট সেল করতে যান আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে সেটাকে মেইনটেইন করতে হবে। অর্ডারগুলো কিভাবে আসবে সেই প্রসেস মেইনটেইন করতে হবে। অনেক ব্যাপার আছে কিন্তু ফেসবুকে শুধুমাত্র একটা পেজ খুলবেন পেজ খোলার পর আপনার প্রোডাক্টের ছবি বা ভিডিও আপলোড দিবেন এবার এটাকে আপনি বুস্ট করে দিবেন।

এখন দেখা গেল আপনি আপনার ফোন নাম্বার দিচ্ছেন, এই ফোন নাম্বারে ফোন আসতেছে, আপনি রিসিভ করে কথা বলে তার সাথে কমিউনিকেশন হওয়ার পরে প্রোডাক্ট গুলো পাঠিয়ে দিচ্ছেন। মানে আপনার প্রোডাক্টগুলো সে রিসিভ করলেই সেল হয়ে যাচ্ছে। খুব সহজ একটা মাধ্যম যার কারণে অনেক লোক এই বিজনেস অর্থাৎ ফেসবুকে প্রোডাক্ট সেল করে অনেক টাকা ইনকাম করতেছে। আর এখন যেহেতু মানুষ ফেসবুকে সবচাইতে বেশি সময় লেগে থাকে তাই এখান থেকে প্রোডাক্টটা সেল হয় অনেক অনেক গুণ বেশি। আপনারা চাইলে ফেসবুকে প্রোডাক্ট সেল করে আয় করতে পারবেন।

ফেসবুক মার্কেটপ্লেস থেকে আয়
ফেসবুকে মার্কেটপ্লেস বলে একটা অপশন আছে আর এখানে আপনি আপনার যেকোন প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন দিয়ে সেগুলো সেল করতে পারেন। সাধারণত আমি আপনাদের আগে যেটা বলেছি যে, কোন প্রোডাক্ট আপলোড করে বুস্ট করতে হয়। কিন্তু মার্কেটপ্লেস বুস্ট না করেও অনেক প্রোডাক্ট এর বিজ্ঞাপন দিয়ে সেল করা যায়। তো এটা টেস্ট করার জন্য আমি মার্কেটপ্লেসে একটা প্রোডাক্ট টেস্ট নিয়েছি। এখানে আমি কোন প্রকার বুষ্ট না করেই প্রোডাক্টগুলো সেল করতে পেরেছি। আপনারা চাইলে মার্কেটপ্লেস এ গিয়ে প্রোডাক্ট গুলো সেল করে ভালো একটি অ্যামাউন্ট আয় করতে পারবেন।

আর্টিকেল তৈরী করে আয়
কোন রকম বুস্ট করা ছাড়াই আপনি যদি শিক্ষামূলক কোনো আর্টিকেল তৈরি করে থাকেন বা ইনফরমেটিভ আর্টিকেল তৈরি করে থাকেন অথবা আপনি রান্না করার আর্টিকেল তৈরি করছেন বা সেগুলো লিখছেন এই টাইপের কাজগুলো আপনি যদি করে থাকেন তো সোজা কথা হচ্ছে আপনি যেকোন জিনিস ভিডিও আকারে প্রকাশ করেন বা লিখতে পারেন সেটা লিখার মাধ্যমে আপনি টাকা আয় করতে পারবেন। সাধারণত নরমালি আপনি পোস্ট করলে পারবেন না।  তো সে ক্ষেত্রে আপনাকে একটা ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে হবে এবং সেটাকে ফেসবুকের সাথে লিংক আপ করতে হবে। 

লিংক আপ করলে যেটা হয় আপনার ওয়েবসাইটের নিউজটা বা আপনার সেই ইনফরমেশনটা জাস্ট এখানে শেয়ার করবেন। শেয়ার করলে আপনার ফেসবুক থেকে মনিটাইজেশন অন হবে। এখান থেকেও কিন্তু আপনি একটি এমাউন্ট আয় করতে পারবেন এটা হয়তোবা অনেকেই জানেন না ।

ড্রপ শিপিং করে আয়
আমার দেখা অনেকেই যারা ফেসবুক এ ড্রপ শিপিং করে টাকা আয় করে। তা আপনিও যদি চান ফেসবুকে ড্রপ শিপিং করে টাকা ইনকাম করবেন তাহলে কিন্তু আপনি শুরু করতে পারবেন ফেসবুকে যেহেতু ট্রাফিক অনেক বেশি তো এখান থেকেও কিন্তু আপনি অনেক বেশি আয় করতে পারবেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়
যারা অনলাইন আয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করেন। তারা এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে ভালোই ধারণা রাখেন। এফিলিয়েট মার্কেটিংটা আসলে কি? আমি যদি আপনাদের সংক্ষেপে বলি তো ধরেন দারাজে হাজার হাজার বা লক্ষ লক্ষ প্রডাক্ট রয়েছে। তারা যে এফিলিয়েট প্রোগ্রাম টি দিয়েছে সেখানে আপনি  এফিলিয়েট প্রোগ্রামের জন্য একটি আবেদন করলেন। তারা যদি আপনাকে এফিলিয়েট প্রোগ্রামের জন্য অনুমতি দিয়ে দেয়।
তখন আপনি তাদের যে কোন প্রোডাক্ট প্রমোট করলেন। তো প্রমোট করার মাধ্যমে আপনার কাছ থেকে বা আপনার লিংকে যদি কেউ প্রবেশ করে পণ্যটি কিনে, তাহলে আপনি এখান থেকে একটা কমিশন পাবেন। এবং আপনার লিংকে প্রবেশ করার পর সুনির্দিষ্ট একটা সময় রয়েছে। ধরেন চব্বিশ ঘন্টা বা ৪৮ ঘন্টা এই সময়ের মধ্যে যদি এই ওয়েবসাইট থেকে যেকোনো পণ্য ক্রয় করে। সবগুলোর কমিশন  আপনার কাছে চলে আসবে এটা  আপনারা দারাজ থেকেও করতে পারেন, আমাজন থেকেও করতে পারেন, আলিবাবা থেকেও করতে পারেন। এরকম মার্কেটপ্লেসগুলো থেকে আপনারা করতে পারবেনা।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করেও আপনারা ভালো একটি এমাউন্ট আয় করতে পারবেন। আপনার নিজের প্রোডাক্ট না থাকা সত্বেও ধরেন আপনার একটা দোকান রয়েছে। আপনি দোকানে বসে সারাদিন পর্যন্ত যে পরিমাণ প্রোডাক্ট সেল করেন। তো সেটা পর্যাপ্ত না। আপনি চাইলে আপনার সেই প্রোডাক্টগুলো অনলাইনে বিক্রয় করতে পারেন। অনলাইনে সেল করলে  আপনি এখান থেকে ভালো একটা টাকা আয় করতে পারবেন। এখানে বেশ কিছু মাধ্যম রয়েছে আপনি এই পণ্যগুলোর ব্লগ করে, ভিডিও আকারে, পাবলিশ করতে পারেন ফেসবুকে। এখানে ট্রাফিক অনেক বেশি থাকে। তো যখন আপনি এভাবে আপলোড করবেন। তখন আপনার দোকানের সব ঠিকানা এবং যাবতীয় সেগুলো দিয়ে দিবেন এখান থেকেও  আপনার পণ্যগুলো সেল করে টাকা আয় করতে পারবেন।

বর্তমানে আপনারা যদি আসলেই অনলাইন থেকে টাকা আয় করতে চান। তাহলে আপনাদের অবশ্যই ফেসবুক ই প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। কারণ ফেসবুকে এখন বেশি ট্রাফিক থাকে। তো আপনাদের আমি যে সব ক্যাটাগরি নিয়ে কথা বললাম এইসব ক্যাটাগরির কোন একটা বেছে নিয়ে আপনারা অনলাইন থেকে বা ফেসবুক থেকে টাকা আয় করতে পারবেন।

আরও জানুন:
আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে তো এরকম পোস্ট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন এবং অবশ্যই নিজে জানুন এবং অন্যকে জানার সুযোগ করে দেন। ছোট্ট করে একটা শেয়ার করে দেন ধন্যবাদ সবাইকে।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া